নেক কাজে দৃঢ়তা বৃদ্ধির উপায়: ৩

সাহস করে সময়মত নেক কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। যে নেক কাজের গুরুত্ব আমাদের আছে তা কি বার বার পিছিয়ে যায়? যায় না। আর যদি নেক কাজটি ‘করছি’, ‘করব’ বলে বার বার পিছিয়ে দেয়া হয়, তাহলে এ কথা স্বীকার করাই উচিত যে, কাজটির গুরুত্ব আমাদের কাছে কম। উদাহরণ হিসেবে, ইবাদত-শ্রেষ্ঠ নামাযের কথাই ধরুন না… জামআতের প্রতি লক্ষ্য থাকলে কি বার বার কারো জামআত ছুটে যায়? না, বরং হয়ত কখনো কখনো ছুটবে, প্রায়ই ছুটতে পারে না।

নেক কাজে দৃঢ় হতে চাইলে মনকে স্থির করে সময়মত নেক কাজে ঝাঁপ দিতে হবে। একেই বলে সাহস করে সময়মত কাজে নামা। প্রথম প্রথম কাজটি অল্প বা আংশিক হোক। তবু হোক! প্রথমে কম, তারপর একটু বেশি আর তারপর পরিমাণ মত – এভাবেই একদিন কাজ পূর্ণ হবে ইনশাআল্লাহ। দেখবেন সাধনার একটি ফল আছে। এটা আল্লাহ তাআলার বিধান। তিনি সাধনাকারীকে বঞ্চিত করেন না।

আল্লাহ তাআলা’র দরবার মানুষের দরবারের মত নয়। সেখানে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার বৃহৎ কদর আছে। আমরা দৈনিক অনেক জাগতিক কাজ করি, কিন্তু ইবাদতের সময় যত ওজর উপস্থিত! সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দৈনিক একটি রুটিন করে নিয়ে নিয়মিত-সময়মত কিছু আমল করলে জীবন ধন্য হবে ইনশাআল্লাহ। অভ্যাস এক দিন, দুই দিন করলে হবে না। এক বছর, দুই বছর করতে হবে!

​স্বভাবগতভাবে মানুষের মন বেশি কাজ দেখলেই​ ঘাবড়ে যায়। জাগতিক দিক থেকে চিন্তা করুন। যে ছাত্রের সামনে লেখাপড়ার এক পাহাড় জমেছে সে চিন্তান্বিত। যে ব্যবসায়ীর সামনে কোনো বড় কারবার এসেছে সেও চিন্তায় ভারাক্রান্ত। এ অবস্থায় সাধারণত কাজের প্রতি মানুষের ভয় বাড়ে, কর্মস্পৃহা হ্রাস পায়। এভাবে সব ক্ষেত্রেই মানুষের সামনে অনেক বেশি কাজ উপস্থিত হলে একটা অজানা ভীতি আর অনীহা কাজ করে।

যেমন, বর্তমানে রোযার মাস। আমাদের সামনে, সাহরী, তারাবীহ। আমাদের অনেকের মনেই এমন চিন্তার উদয় হয়: সাহরী খেতে সেই ভোর বেলা উঠতে হবে! ইফতার করে আরাম করতে না করতেই তারাবীর মতন এত লম্বা নামায পড়তে হবে! মনের ভিতর এমন নানা চিন্তা ভীড় করে। কী দুনিয়া-কী দ্বীন, যে কিনা সাহস করে সময়মত কাজ করে ফেলে – তার কাজ হয়েই যায়। অসুস্থ থাকলে, অন্য ওজর থাকলে সেটা ভিন্ন। সাধারণত একটু চেষ্টা করলেই মানুষ তার কাজে সফল হয়ে যায় অর্থাৎ তার দ্বারা কাজটি হয়ে যায়। আর তারপর: একই কাজ  এক বার-দু’ বার নয়, বার বার করতে মানুষ সফল হয়। কাজটি অভ্যাসে পরিণত হয়। তখন কাজটি বাকি থাকলে বরং খারাপ লাগে। ঐ কাজেই সে অত্মিক, মানসিক এমনকি শারীরিক শক্তি খুঁজে পায়। এটা আসলে হয়েছে – বসে না থেকে সাহস করে কাজে নামার কারণে। আর এর ফলে সাহস আরো বেড়ে যায়। অর্থাৎ যেই কাজটি সাহস করে শুরু করা হয়েছে সেই কাজতো হয়েছেই, তার গুণগত মানও ধীরে ধীরে বেড়েছে। পরবর্তী ধাপে সাথে আরো কাজ করার তাওফীক হয়ে গেছে। যেমন: সাহস করে ফজরের নামায পড়তে মসজিদে গিয়েছেন। নামাযতো পড়া হয়েছেই। সাথে অনেক দুআ-যিকিরও হয়ে গেছে মাশাআল্লাহ!

নেক কাজে দৃঢ়তা অবলম্বন ও দৃঢ়তা বৃদ্ধির জন্য সাহস করে কাজে লাগার কোনো বিকল্প নেই। গুনাহ পরিত্যাগ তো সবচেয়ে বড় নেক কাজ! কেউ দৃষ্টি শক্তি অপাত্রে ব্যবহার করছে। কারো লেনদেনে এদিক-সেদিক করার অভ্যাস। কেউ খুব মিথ্যা বলতে বা গীবত করতে অভ্যস্ত —  উলামায়েকেরাম ও বুযুর্গানে দ্বীন বলেছেন যে, সবার জন্য মৌলিক তদবীর (প্রচেষ্টা) একটাই! সাহস করে সময়মত তার মুকাবিলা করা। এভাবে কিছু দিন বা কয়েক বার সাধনা করলে সব বদ অভ্যাস ছুটবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ পাক তাঁর পথে আমাদেরকে দৃঢ়তা দান করুন। আমীন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *