নেক কাজে দৃঢ়তা বৃদ্ধির উপায়: ২

যে জানে না তার জন্য তো অতি অাবশ্যকীয়, যে জানে তার জন্যেও জ্ঞান আহরণে থেমে থাকার সুযোগ নেই। আর আমরা যে জ্ঞানের কথা বলছি তা নিছক পার্থিব জীবনের চাহিদা মেটানোর জ্ঞান নয়, আমরা বলছি মুক্তি ও চির সফলতা লাভের উপায়ভিত্তিক জ্ঞান — দ্বীনের ইলম্ আহরণের কথা।  যে জ্ঞানের মাধ্যমে মানুষ নিজের স্রষ্টাকে চেনে ও বুঝে নিজের জীবনের মূল উদ্দেশ্য কী।  একজন মুসলমান যদি নেক কাজে নিজ সাধনাকে সচল ও অবিচল রাখতে চায় (এবং যেটা রাখা জরুরীও) – ইলম্ অর্জনে পিপাসার্ত থাকা ও তা নিবারণের যথাযথ ব্যবস্থা করা জরুরী এবং অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।

কে এমন আছে যে সফলভাবে জীবন পরিচালনা করার জন্য একটি সুস্পষ্ট পথনির্দেশনা চায় না? সেই পথনির্দেশনাটি যদি হয় মানুষের সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক প্রেরিত তাহলে তো কথাই নেই।

একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম হিসেবে না হলেও একজন সজাগ ও সচেতেন মানুষ হিসেবেই তো ‘মহাসত্য’কে জানার প্রবণতা আমাদের সবারই থাকা উচিত। ইসলামের জ্ঞান তথা ‘দ্বীনের ইলম্’ সেই শাশ্বত সত্যই যা আমাদের সামনে রয়েছে। মুসলমান হিসেবে এ কথাটি আমরা কে না বিশ্বাস করি?! নেক কাজে দৃঢ়তা অর্জনের জন্য ‘দ্বীনের জ্ঞান অর্জন’ অত্যন্ত মৌলিক একটি কাজ।

বর্তমানে ইসলামের জ্ঞান অর্জনে আমাদের মুসলমানদেরই বৃহত্তরভাবে অবহেলা আছে – এতটুকু বললেও কম বলা হবে। বাস্তবে, দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা আজ আমাদের মুসলমানদের বৃহৎ এক অংশের কাছে নফল বা ঐচ্ছিক একটি কাজ যেন! ঐচ্ছিক কাজ মানুষ স্বেচ্ছায় করে আর স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেয়, আবার করেও মন মতন। ইলম্‌ অর্জনে আমাদের এমনই দশা! এ অবস্থা থেকে আল্লাহ তাআলা’র আশ্রয় চাই আমরা!

ইলম্‌ তথা দ্বীন-ইসলামের জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী হতে হবে, হতে হবে অনুসন্ধানী। শুধু সাধারণভাবে সত্যকে ‘সত্য’ বলে একটু স্বীকার করে নিলে শেষ-মেষ ঈমানের মতন ‘মহারত্ন’ই হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে! নিজের প্রাত্যহিক জীবনে ইসলামকে শেখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সবার জন্য অবশ্য এ ব্যবস্থা সমান হবে না। কিন্তু মুসলমান হিসেবে মৌলিক জ্ঞান তো সবাইকে অর্জন করতে হবে।

ইসলাম হল ঈমান-আক্বীদা, ইবাদত, মুআমালাত (লেনদেন), মুআশারাত (সামাজিক রীতিনীতি) ও আখলাক (চরিত্র গঠন) – এ পাঁচটি বিষয়ের সমন্বয়। এ পাঁচের মধ্যে মানবজীবনের সবকিছু চলে এসেছে। এগুলোর প্রতিটির ফরয্-ওয়াজিব তো মৌলিক বিষয়, সবাইকে জানতে হবে। স্থান, কাল, পাত্রভেদে আরো জানা দরকার ইসলামের নির্দেশনা আমার জন্য কোথায়-কী?

একজন মুসলিম, সে হোক পুরুষ বা নারী, সে কি ইসলামের ওপর চলতে চায় না? অবশ্যই চায়। আগে ইসলামকে জানুন তারপর মানার বিষয়গুলো সহজ হবে ইনশাআল্লাহ। বর্তমানে এমন হচ্ছে যে, আমাদের কেউ ইসলামের কোনো একটি বিষয়কে আন্দাজ-অনুমানে ‘কঠিন’ ঠাউরেছি। তারপর ইসলাম নিয়ে জানার আগ্রহই বন্ধ করে দিয়েছি! এটা কি ইনসাফ বা ন্যায়সঙ্গত হল?!‍ কোনো বিষয়ের ছাত্র কি সেই বিষয়ের কোনো অধ্যায়কে ‘কঠিন’ মনে হওয়ার পর বিষয়টিকে সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করে? আর ঈমান-ইসলাম তো ভাই আমাদের প্রত্যেকের সারা জীবনের সিদ্ধান্তের বিষয়! ভাসাভাসা জ্ঞান নয়, ইসলামকে সঠিকভাবে জেনে ও উপলব্ধি করে জীবন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আমাদের চিন্তাচেতনায় যে বিষয়গুলো ঘুরপাক খায় তার মাত্র কয়েকটি উদাহরণ এখানে উল্লেখ করছি। আজ অনেকে পর্দার বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে। অনেকে প্রশ্ন উত্থাপন করে মুসলমানদের বর্তমান দুর্দশা নিয়ে। অনেকে বা নিজের জীবনের সাথে কুরআন-হাদীসকে মেলাতে পারে না। অনেকে তকদীর নিয়ে চিন্তায় হাবুডুবু খায়। অনেকে আখেরাতের বিশ্বাস নিয়ে নিজে নিজেই নানান সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। অনেকেরই এ চিন্তাগুলোর শুরুটা ভাল; তাদের মনে প্রশ্নের উদয় হয়, তারা একটা সমাধান চায়। কিন্তু সমাধানের জন্য আন্তরিকভাবে একটু যে ‘চেষ্টা’ করা – এটা না করেই হাত-পা গুটিয়ে তারা নিজ সিদ্ধান্তে স্থির হয়ে যায়। এ পথে সে কাউকে অভিভাবক, গুরু, শিক্ষক বানায় না। কিন্তু  এর বিপরীতে অন্য পথগুলোতে সে হতাশ হচ্ছে না। কাউকে  অনুসরণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্য সব পথে সে ঠিকই অগ্রসর হচ্ছে, সাধনা করে যাচ্ছে। কিন্তু ইসলামের জ্ঞান অর্জনে অবহেলা-অনীহা করে তার সাথে ইসলামের দূরুত্ব বেড়েই চলছে। ফলে একসময় ঈমান-ইসলামের সাথে তার যোগাযোগই হয়ে পড়ছে প্রায় বিচ্ছিন্ন!

আসুন ইসলামের এত সুন্দর পথ থেকে আমরা এভাবে বিমুখ না হই। ইসলামের জ্ঞান অর্থাৎ ইলম্ অর্জনে নিবেদিত হই। আন্তরিকভাবে ইসলামকে জানতে শুরু করি। নানান মত, ঝগড়া-বিবাদ আছে ও থাকবে। আন্তরিক আগ্রহ ও প্রচেষ্টার কারণে সবকিছুর মাঝেই সত্য উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ, কারণ আসলে সত্য উদ্ভাসিত হয়েই আছে। আমাদের চোখ বন্ধ বলে আজ আমরা সত্যকে দেখতে পারছি না! আল্লাহ তাআলা তাঁর আন্তরিক বান্দাকে বিপথ করবেন কেন?

নেক কাজে দৃঢ়তা বৃদ্ধির জন্য অবিরাম ইসলামের জ্ঞানকে শিখতে ও জানতে হবে। কথাটি সংক্ষেপে বলাটা খুব সহজ। কিন্তু প্রতিটি মানুষের জীবনে এঁর গুরুত্ব ও প্রভাব অনেক বেশি!

কিভাবে এ জ্ঞান অর্জন শুরু করব? এ প্রবন্ধে এই আলোচনা (বিস্তারিতভাবে) করার অবকাশ এখানে কোথায়?! ইনশাআল্লাহ তবু প্রবন্ধের একটি অংশে কিছুটা আলোকপাত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *